ইরান-চীন সম্পর্কে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই: গালিবাফ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।

বুধবার (২৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরান ও চীন ২০২১ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদি অংশীদারত্ব কর্মসূচির ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে যাবে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, উভয় পক্ষের লাভজনক সহযোগিতা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ইরান-চীন সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্কের জন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।

গালিবাফের এ মন্তব্যের এক দিন আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে চীন। বেইজিং জানায়, মার্কিন পদক্ষেপের কারণে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে তারা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক আইন কিংবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের ভিত্তি নেই, এমন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বেইজিং।

গালিবাফ এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করায় চীনের অবস্থানকে নীতিগত ও দৃঢ় বক্তব্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এবারও তিনি চীনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন।

ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গিয়ে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন, বিশেষ করে ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানি, অব্যাহত রয়েছে।

ইরান-চীন সম্পর্কের এই অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন তেহরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ইরানের বার্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

AS
আরও পড়ুন