তেহরানে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী, আলোচনায় আগ্রহী নন ট্রাম্প

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ জোরদার করতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করবেন। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের মধ্যে আবারও সংলাপের পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করবেন।

কাতার দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এর আগে দোহার মধ্যস্থতায় জুনে একটি সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সংঘাত কমলেও জুলাইয়ে তা ভেঙে যায়। এবার কাতার আবারও দুই পক্ষকে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা করছে।

তবে কাতারের এই উদ্যোগের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় ফেরার জন্য ইরানকে কত সময় দেওয়া হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তাঁর নেই।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ—দুটিই কার্যকর হচ্ছে। ইরানের মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক, তাঁর কোনো নির্ধারিত সময়সূচি নেই।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও আলোচনা

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফরে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। সংঘাতের পর প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরেও উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের বিষয় উঠে আসে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবিও করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, অন্যদিকে ট্রাম্প আলোচনার জন্য কোনো সময়সীমা দিতে নারাজ। ফলে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পথ কতটা খুলতে পারে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এমএজেড
আরও পড়ুন