ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আস্থা রাখা যায় না—এমন মন্তব্য করতে গিয়ে দেশটির জনগণ ও ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তাঁর দাবি, কিছু ইরানির ক্ষেত্রে মতবিরোধী ব্যক্তির সঙ্গে মিথ্যা বলা নাকি তাদের ধর্মেরই অংশ।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জনসন বলেন, ইরানিরা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারা আলোচনার টেবিলে বসে এক কথা বলে, পরে সেখান থেকে সরে গিয়ে উল্টো কাজ করে—এমন অভিযোগ করেন তিনি।
জনসন বলেন, “তাদের মধ্যে কারও কারও ক্ষেত্রে, তারা যার সঙ্গে মতবিরোধে রয়েছে তার সঙ্গে মিথ্যা বলা নাকি তাদের ধর্মের অংশ।” তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যেই জনসন এই মন্তব্য করলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘স্থির হাতে’ নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
জনসনের বক্তব্যের সমালোচকেরা বলছেন, একটি দেশের জনগণ বা তাদের ধর্ম সম্পর্কে এমন সাধারণীকরণ বিভাজনমূলক এবং বৈষম্যমূলক ধারণাকে উসকে দিতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের নিয়ে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার বিতর্কিত মন্তব্যের ক্ষেত্রেও জনসনের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল।
তবে জনসনের বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা ও সামরিক সংঘাত। তিনি ইরানের নেতৃত্বের ওপর আস্থার ঘাটতির কথা তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে তেহরানের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার এমন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সম্ভাব্য আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
সূত্র: আল জাজিরা
পরবর্তি হামলায় ইরানের খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকবে: ট্রাম্প
চট্টগ্রামে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
মধুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেলো যুবকের