চট্টগ্রামে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, আবার কোথাও প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ ও বিপণনেও তৈরি হয়েছে জটিলতা।
চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, জাহাজভাঙা, ঢেউটিন, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্প খাত এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে নগরের ৩৪৩টি তৈরি পোশাক কারখানার পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ২০০ ভারী শিল্প ইউনিটসহ তিন হাজারের বেশি ছোট-বড় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
গত ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন তুলনামূলক কম ছিল। ফলে ওই সময়ে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি দেখা যায়। তবে ছুটি শেষে গত রোববার ও সোমবার কর্মদিবসে ফিরতেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে আবারও ঘাটতি দেখা দেয়। এতে স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প খাত কঠিন সময় পার করছে। প্রতিদিন সংকটের কথা বলা হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার চট্টগ্রামে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। ওই সময়ে চাহিদা ছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি ছিল।
গত রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।
গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটও শিল্পকারখানার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ১ হাজার ২০৯ দশমিক ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ৯ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ওই দিন ঘাটতি ছিল ১৯৯ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকবর হোসেন বলেন, যতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তা জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই।
এদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক খাতেও। শীর্ষস্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান গ্রুপের চট্টগ্রামে ১৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের গার্মেন্টস ইউনিটে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ পোশাক উৎপাদন হয়। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে চলা গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধেকে।
এশিয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুধু উৎপাদন নয়, পণ্য বিপণনসহ পুরো কার্যক্রমেই সমস্যা বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলোকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্পমালিকেরা বলছেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। বিশেষ করে জেনারেটর চালাতে ডিজেল ব্যবহার করায় বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থার খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করতে না পারায় ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রামের শিল্পকারখানাগুলোকে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফেরাতে হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্প খাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয়ী হলেন ৮০ বছর বয়সে এড মার্কি
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, নিহত ৪, আহত অর্ধশতাধিক
মধুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেলো যুবকের