ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত বেড়ে ১৮

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের গতকালের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকা বেসামরিক মানুষ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য এবং বাসিজ বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন দক্ষিণাঞ্চলীয় কুহেস্তাক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখানে একটি বাড়িতে মার্কিন হামলার ধ্বংসাবশেষ ও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ওই ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বিভিন্ন ইরানি সূত্রে আহতের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮ জনের মধ্যে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের তিনটি পৃথক স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও সাতজন নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে প্রাদেশিক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহভাজ ও আগাজারি শহরের আশপাশের এলাকায় হামলাগুলো চালানো হয়।

হালনাগাদ হিসাবে কেরমানশাহে আইআরজিসির চার সদস্য এবং লাবান দ্বীপে বাসিজের তিন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ হিসাবে বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ১৮।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের আইআরজিসির সামরিক স্থাপনা। এসব হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন পাতা-সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য, বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ভিন্ন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। অন্যদিকে ইরান ওই ঘটনাকে বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন হামলার পর ইরান জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ইরানি সূত্রে জানা গেছে।

ইরানে নিহতের ১৮ জনের এই হিসাব এখনো স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহতের সংখ্যা ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হালনাগাদ হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এমএজেড
আরও পড়ুন