বিশ্বের সব ধর্মের মূল শিক্ষায় ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, মানুষকে ধর্ম, বিশ্বাস, জাতিগোষ্ঠী, লিঙ্গ বা জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা না করে সবার অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই ন্যায়ের মূল ভিত্তি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভারতে ধর্মীয় পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নবী-রাসুলদের শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ওপর জুলুম প্রতিহত করা। কোরআনের শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য একজন বার্তাবাহক পাঠানো হয়েছিল, যাতে মানুষের মধ্যে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, মানুষ মূলত একই সম্প্রদায়ের অংশ ছিল। পারস্পরিক বিরোধ নিরসন, সংঘাত প্রতিরোধ এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষ যখন সত্যের বদলে স্বার্থ ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিতে শুরু করে, তখনই বিভেদ, নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়ে।
ইরানি প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, সঠিক পথে থাকার অর্থ হলো ন্যায়বিচার করা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং মানুষের সেবা করা। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানুষের আচরণ ও ন্যায়ের প্রতি তার অঙ্গীকারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় দায়িত্বের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার সম্পর্ক তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, এতিমদের সহায়তা করা, দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো এবং নিপীড়িত মানুষের জন্য কথা বলা ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের সেবা ও সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা থেকে ধর্মীয় অনুশীলনকে আলাদা করা যায় না।
এরপর ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, আধিপত্য ও নিপীড়নের বিরোধিতা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র নিজের ইচ্ছা অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে কিংবা অন্য রাষ্ট্রকে তার সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে, এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইতিহাসে যারা শক্তির জোরে অন্যের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, নিপীড়ন চালিয়েছে কিংবা অন্যায়ভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে, শেষ পর্যন্ত তাদের পরাজয় বা পতন হয়েছে। ইরানও কোনো ধরনের আধিপত্য বা চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দেবে না বলে জানান তিনি।
ইরানি প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠা থেকে বিরত রাখতে চায়। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের ওপর চাপ, সংঘাত এবং বিভাজন সৃষ্টির প্রচেষ্টা বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভারত ও ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। দুই দেশের উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুস্থ বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
শেষে ভারত ও ইরানের মধ্যে বন্ধুত্ব, মানবিকতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংহতি আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন পেজেশকিয়ান। দুই দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে জনগণের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি
একতরফা বিশ্বব্যবস্থার পুনরুত্থান ঠেকানোর আহ্বান পেজেশকিয়ানের
মার্কিন সহায়তা ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী ভেঙে পড়বে: ভাহিদি
অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: হোসেইন তাইয়েব