প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য সমাধানে প্রস্তুত ইরান

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে সমাধানে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তেহরানে ইরাকের প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তানের প্রধান বাফেল তালাবানির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের সম্পর্ক ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘদিনের অভিন্ন ঐতিহাসিক, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এসব অভিন্ন সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, আঞ্চলিক বিভাজন ও সংঘাত তৈরিতে বাইরের যেসব প্রচেষ্টা রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় আরও বেশি সহযোগিতা ও সংলাপ প্রয়োজন। প্রতিবেশী পক্ষগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানে ইরান প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে সব পক্ষকে সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতি মেনে চলতে, অতিরিক্ত দাবি এড়িয়ে চলতে এবং অনুচিত আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানিরা মুসলিমদের ভাই মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন, আঞ্চলিক সমস্যাগুলো সহযোগিতা, সংলাপ, ন্যায়সংগততা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সংহতিতে পূর্ণ একটি অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরান ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের মধ্যে যাতায়াত, পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক বিনিময় ও অন্যান্য সহযোগিতা এসব এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। যোগ্যতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সামর্থ্য কাজে লাগানো তার সরকারের অন্যতম নীতিও বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে তালাবানি ইরানকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দল সমর্থন করে বলেও জানান তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তালাবানি বলেন, কুর্দিস্তান অঞ্চলের সীমান্ত থেকে ইরানের নিরাপত্তা রক্ষায় তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ইরান ও ইরাকের মধ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই চুক্তির আওতায় ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তালাবানি আরও বলেন, বিদ্যমান প্রয়োজন মেটানো এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তার জন্য তিনি একটি অর্থনৈতিক দল নিয়ে ইরানে এসেছেন। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন