তাইজের পশ্চিমে হুথি অবস্থানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ এএম

ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান, সমাবেশ ও অস্ত্রভাণ্ডারে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এমন দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।

সরকারপন্থী ইয়েমেনি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের সামরিক অবস্থান ও অস্ত্রের মজুতস্থল লক্ষ্য করে জোটের যুদ্ধবিমানগুলো একাধিক হামলা চালায়। তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাইজে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আল-ওয়াজিয়াহ ও কাহবুব পর্বতমালা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এসব উঁচু এলাকা লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং উপকূলীয় যোগাযোগপথের দিকে যাওয়ার রুটের ওপর কৌশলগত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কাহবুব পর্বতমালার কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা থেকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে বলে কয়েকজন ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব গত কয়েক দিনে হুথিদের অবস্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে হুথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাইজ, মারিব ও অন্যান্য এলাকায় বিমান হামলা এবং স্থলযুদ্ধ বাড়ার বিষয়টি একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনীও পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে তারা আল-কাধা ও আল-আনিনসহ কয়েকটি ফ্রন্টে হুথিদের হামলা প্রতিহত এবং কিছু অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। কাহবুব পর্বতমালা ঘিরে লড়াইয়ের কারণে বাব আল-মান্দেবের দিকে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে কম তীব্রতার সংঘাত চললেও চলতি সেপ্টেম্বর থেকে লড়াই আবার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। হুথিদের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর অগ্রযাত্রা এবং বাব আল-মান্দেব ঘিরে সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা এবং কোন কোন নির্দিষ্ট হুথি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এএম
আরও পড়ুন