জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের শহীদ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানির স্মৃতি তুলে ধরেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির সমালোচনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই ফারসি মহাকাব্য শাহনামা থেকে দুটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন। তিনি লিখেছেন, সিয়াভাশকে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু শাহনামায় তাঁর রক্তের কথা নীরব হয়ে যায়নি। ইরান ও তুরানের পক্ষ থেকে সেই রক্তের প্রতিবাদী আওয়াজ উঠবে এবং তা পুরো বিশ্বকে আলোড়িত করবে, এমন বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
এরপর বাঘাই বলেন, ইতিহাস অনেক সময় জীবিতদের চেয়ে মৃতদের বেশি স্মরণ করে। কারণ, তারা শত্রুকে স্মৃতির মধ্যেও অস্বস্তিতে রাখে এবং তাদের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকে।
জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বাঘাই বলেন, গাজায় হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং ইরানের প্রতি বিদ্বেষী একজনের জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিতির সময় সেখানে থাকা অধিকাংশ মানুষ তাঁর কথিত কর্মকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের নিদর্শন হিসেবে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
বাঘাই আরও বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদলও সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে একটি ছবি সেখানে রেখে যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি ছিল ইরানের গর্বিত শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানির স্মরণে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দাবি, সোলাইমানির ওই ছবি ইরানের প্রতিনিধিদল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সামনে রেখে যায়। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল সোলাইমানির স্মৃতি ও মর্যাদা তুলে ধরার পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি একটি প্রতীকী বার্তা।
বাঘাইের বক্তব্যে সোলাইমানির উত্তরাধিকার ও স্মৃতিকে ইরানের রাজনৈতিক ও প্রতিরোধের বয়ানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থানও প্রকাশ পেয়েছে। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি
ফিলিস্তিন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট: আরাঘচি
শত্রুকে উচিৎ শিক্ষা দিয়েছে ইরান: গালিবাফ
বাব আল-মান্দাব দিয়ে বৃহস্পতিবার ২৬ জাহাজ চলাচল