জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলো জঘন্যতম যুদ্ধাপরাধের সাফাইদাতা: বাঘাই

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন ও যৌক্তিকতা দেওয়ার অভিযোগে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ ধরনের অবস্থান নিয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জঘন্যতম যুদ্ধাপরাধের সাফাইদাতার’ পর্যায়ে নেমে গেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানায়, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন বাঘাই।

পোস্টে তিনি বলেন, একসময় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস উৎসাহের সঙ্গে বলেছিলেন, ইরানে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ‘আমাদের হয়ে নোংরা কাজটি’ করছে। অথচ কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই একই চ্যান্সেলর এখন আক্ষেপ করছেন, এই যুদ্ধের কারণে ইউরোপের অর্থনীতিতে ১০০ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় হচ্ছে।

বাঘাই আরও বলেন, এখন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরানের ওপর সামরিক হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, এই অবস্থান থেকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধের প্রাণহানি ও সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো উপেক্ষা করছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জার্মানি ও ইউরোপের অর্থনীতির যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটিও অনুধাবন করতে পারছেন না।

ইরানের এই মুখপাত্র জার্মান একটি প্রবাদ উদ্ধৃত করে বলেন, ‘ক্ষতি থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়।’ তবে তাঁর মন্তব্য, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেন কোনো শিক্ষা নিতে আগ্রহী নন।

তেহরানের এই বক্তব্যে ইরান-জার্মানি সম্পর্কের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানগত বিভাজনও সামনে এসেছে। একদিকে জার্মানির পক্ষ থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সামরিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগও বাড়ছে।

তবে বাঘাইয়ের বক্তব্য ইরানের সরকারি অবস্থানের প্রতিফলন। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত