হরমুজে মাইনের আঘাতে তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে আগুন: আইআরজিসি

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিষিদ্ধ পথে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় নৌমাইনে আঘাত লেগে আগুনে জ্বলছে একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের দাবি, প্রণালির নিরাপত্তাব্যবস্থা উপেক্ষা করে বিপজ্জনক পথে যাওয়ার সময় ট্যাঙ্কারটি মাইনে আঘাত হানে। এতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

শনিবার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানায়, হরমুজ প্রণালি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল ট্যাঙ্কারটি। এ সময় সেটি নৌমাইনে আঘাত করলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ঘটনার আগে জাহাজটি নিজেদের নৌচলাচল ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যার আগুন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারাও দেখতে পাচ্ছেন। তবে জাহাজটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী সেটি, নাবিকদের অবস্থা কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ঘটনায় আইআরজিসির দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাবিধি অমান্য করে চলাচলকারী জাহাজগুলোর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এই বাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ম উপেক্ষা করে চলাচলকারী যেকোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জন্য ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড অপেক্ষা করছে। প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে আইআরজিসি।

এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে অবৈধ পথে চলাচলের চেষ্টা করা একটি বিশাল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল আইআরজিসি নৌবাহিনী। সে সময় বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুধু হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অঞ্চলজুড়েই তাদের অনুসরণ করে শাস্তি দেওয়া হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। চলমান যুদ্ধ ও নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কৌশলগত এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ব্যাপকভাবে কমে এসেছে; কোনো কোনো সময়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া এবং তেহরানের আস্থা পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে ইরানের বিধিনিষেধ এবং অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সূত্র: প্রেস টিভি

এএস
আরও পড়ুন