যুদ্ধের মধ্যেও প্রতিরক্ষা উৎপাদন অব্যাহত রাখায় আইআরজিসি প্রধানের প্রশংসা 

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া দুই যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশেষজ্ঞরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের প্রশংসা করেছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদি। তিনি বলেছেন, নিজস্ব জ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি ধরে রাখা ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইরানের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাকির সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন ভাহিদি। বৈঠকে দুই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তায় প্রতিরক্ষা শিল্পের ভূমিকা, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আইআরজিসির সমন্বয় বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে আইআরজিসি প্রধান বিশেষ করে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ৪০ দিনের রমজান যুদ্ধের সময় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশেষজ্ঞ ও কর্মীদের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব সংকটের মধ্যেও দেশের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণে নিজস্ব সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার ইরানের কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভাহিদি বলেন, নিজস্ব জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভরতা, বিশেষজ্ঞদের দৃঢ় সংকল্প এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি ধরে রাখা ও প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন আইআরজিসি প্রধান। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশের নিজস্ব সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী শাখা এবং শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

ভাহিদির মতে, সামরিক ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা গেলে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি উন্নত করা এবং দেশের প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার মতো প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাকি সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন পূরণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান। বিশেষ করে কৌশলগত অস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আখলাকি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন, সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইআরজিসির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত