একপর্যায়ে ইরানকে হাতুড়ি দিয়ে পিষে ফেলতে হবে: ট্রাম্প

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একপর্যায়ে ইরানকে হাতুড়ি দিয়ে পিষে ফেলতে হবে। দেশটির বিরুদ্ধে এখনই আরও সামরিক হামলা চালানো থেকে বিরত থাকলেও শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

রোববার (২ নভেম্বর) আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডুবুক শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক দিন আগে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, আরও প্রাণহানি এড়াতেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো থেকে বিরত রয়েছেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার একমাত্র কারণ তিনি প্রাণহানি এড়াতে চান। যতটা সম্ভব মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে একপর্যায়ে ইরানকে ‘হাতুড়ির আঘাত’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেগুলোতে হামলা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের নামও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য এল। একই সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু করার চেষ্টা চলছে। তবে সেই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। আলোচনায় ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা এবং সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার সম্ভাবনা উঠে আসে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর পক্ষে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগকে আরও সময় দিতে চান ট্রাম্প।

‘যুদ্ধের ভৌগোলিক সীমা থাকবে না’

এদিকে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। তার ভাষ্য, পরবর্তী সংঘাত কখন শুরু হবে কিংবা কীভাবে শেষ হবে, তা যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে নির্ধারণ করতে পারবে না।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেবিও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, নতুন সংঘাত শুরু হলে যুদ্ধক্ষেত্রের কোনো ভৌগোলিক সীমা থাকবে না। অর্থাৎ, সংঘাত নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা, দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটন আলোচনার পথ বেছে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো জবাব দেয়নি তেহরান।

আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে ইরানের কয়েকটি শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং চলমান সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ অবসান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিও দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে রয়েছে।

‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত’

এদিকে, নতুন করে সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হবে বলে আশা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, এই অঞ্চলের স্বার্থে নতুন করে আরেক দফা সংঘাত হওয়া উচিত নয়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতি আসবে বলে আশা করলেও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমিরাত প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। সূত্র: আরব নিউজ

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত