ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৪ মার্চ) ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সময় বড় কথা নয় বরং কাজ শেষ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কোনো কিছুতেই সময়সীমা নেই। আমি কেবল কাজটা (যুদ্ধ) শেষ করতে চাই।’ যদিও এর আগে গত সোমবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে তার এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।
ট্রাম্পের ৪টি প্রধান লক্ষ্য
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের চারটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
১. ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না (এটিই তার এক, দুই এবং তিন নম্বর লক্ষ্য)।
২. ইরানের কোনো ব্যালিস্টিক মিসাইল থাকতে পারবে না।
৩. ইরানের নেতৃত্বে এমন কাউকে বসানো, যিনি ‘বিচক্ষণ ও সুস্থ মস্তিষ্কের’ অধিকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে মার্কিনিদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প কিছুটা নির্লিপ্তভাবেই বলেন, ‘আমার মনে হয় মানুষ সবসময়ই এই বিষয়ে চিন্তিত থাকে। আমরাও সবসময় এটি নিয়ে ভাবি এবং পরিকল্পনা করি। তবে হ্যাঁ, আমরা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। যেমনটি আমি বলেছি, যুদ্ধে কিছু মানুষ মারা যাবে। যখন আপনি যুদ্ধে যাবেন, তখন কিছু মানুষের মৃত্যু হবেই।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘নো টাইম লিমিট’ বা অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধের হুমকি মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। তবে দেশে জনসমর্থন কমলে বা তার লক্ষ্য অর্জিত হলে যেকোনো সময় তিনি এই অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

