আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুললেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন কংগ্রেস যদি ভোটারদের জন্য কঠোর পরিচয়পত্র (Voter ID) সংক্রান্ত আইন পাস না করে, তবে তিনি অন্য কোনো নতুন বিলে স্বাক্ষর করবেন না।
রোববার (৮ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
কী আছে এই প্রস্তাবিত আইনে?
ট্রাম্প মূলত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ (SAVE America Act) পাসের দাবি জানাচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে এই বিলটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (House of Representatives) পাস হয়েছে। এই আইনের প্রধান শর্তগুলো হলো:
১. ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ দিতে হবে।
২. নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার সময় পরিচয়পত্রের কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।
৩. প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া কাউকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের ফলে মার্কিন আইনসভা বা কংগ্রেসে অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিনেটের মাইনরিটি লিডার ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই আইনটিকে ‘জিম ক্রো ২.০’ (Jim Crow 2.0) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এর মাধ্যমে মূলত সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছেন। সিনেটে এই বিল পাসের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন, যেখানে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫৩। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া এই বিল পাস হওয়া প্রায় অসম্ভব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প এই চাল চেলেছেন। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল কিছুটা পিছিয়ে থাকে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ভাটার কারণে রিপাবলিকানরা চাপে আছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকায় কড়াকড়ি আরোপ করে নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইতোমধ্যেই মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ওপর ভোটার তালিকা হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে। এমনকি জানুয়ারি মাসে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে ভোটার রেকর্ড জব্দ করতে এফবিআই (FBI) অভিযান চালিয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে ইরান যুদ্ধ আর অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ভোটাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব—এই দুইয়ে মিলে আমেরিকার পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত। ট্রাম্প যদি সত্যিই অন্য কোনো বিলে সই না করেন, তবে দেশটির প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম বড় ধরণের সংকটের মুখে পড়বে।
মার্কিন অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবে না: ট্রাম্প
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প
