যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় নির্বাচনে কোটি কোটি ডলার ঢালছে ইসরায়েলপন্থিরা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচন। বিশেষ করে শিকাগো এলাকায় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পরাজিত করতে ইসরায়েলপন্থি শক্তিশালী লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ (AIPAC) এবং তাদের মিত্ররা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থি রাজনীতির শক্তি পরীক্ষার একটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিকাগোর পাবলিক রেডিও ডব্লিউবিইজেড (WBEZ)-এর এক তদন্তে দেখা গেছে, আইপ্যাক এবং তাদের দাতারা এই প্রাইমারি নির্বাচনে অন্তত ১৩.৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। মজার ব্যাপার হলো, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের কাছে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা বর্তমানে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকায় আইপ্যাক সরাসরি নিজের নামে প্রচার না চালিয়ে ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (UDP)-এর মতো জেনেরিক নামের মাধ্যমে অর্থ ঢালছে।

প্রগতিশীল গোষ্ঠী ‘জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস’-এর মুখপাত্র ওসামা আন্দ্রাবি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আইপ্যাক এখন ডেমোক্র্যাটদের কাছে একটি ‘টক্সিক’ বা বিষাক্ত ব্র্যান্ড। ভোটাররা যখন দেখে কোনো প্রার্থী আইপ্যাকের সমর্থনপুষ্ট, তখন তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করছে।’

এই নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ২৬ বছর বয়সী প্রগতিশীল অ্যাক্টিভিস্ট কাট আবু গাজালাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল জনপ্রিয় এই তরুণী গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাকে ঠেকাতে আইপ্যাক সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো মরিয়া হয়ে প্রচার চালাচ্ছে। এমনকি তার ভোট কমাতে অন্য একজন পিছিয়ে থাকা প্রার্থীর (বুশরা আমিওয়ালা) পক্ষেও আইপ্যাক বিজ্ঞাপন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি এনবিসি (NBC)-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মাত্র ১৭ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের চেয়ে ইসরায়েলিদের বেশি সমর্থন করেন। এছাড়া ইরানের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রভাব সাধারণ আমেরিকানদের পকেটেও (জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি) লাগতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা আর নতুন কোনো ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ (Forever War) চাইছে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইলিনয় নির্বাচনে প্রগতিশীলদের জয় বা পরাজয় ঠিক করে দেবে যে আগামীতে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি কোন দিকে মোড় নেবে। জুনায়েদ আহমেদ এবং কিনা কলিন্সের মতো প্রগতিশীল প্রার্থীরাও আইপ্যাকের এই ‘ডার্ক মানি’ বা গোপন অর্থের রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

DR/SN
আরও পড়ুন