ইরান যুদ্ধের দায় পিট হেগসেথের ওপর চাপালেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর যৌক্তিকতা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই যখন প্রবল সমালোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই দায় এড়ানোর কৌশল নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি সরাসরি প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে দায়ী করেছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, পিট হেগসেথই প্রথম ইরানে সামরিক অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। হেগসেথকে পাশে বসিয়েই ট্রাম্প বলেন, ‘পিট, আমার মনে হয় তুমিই প্রথম সরব হয়েছিলে এবং বলেছিলে ‘চলুন এটা করি, কারণ আপনি তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দিতে পারেন না’।’

উল্লেখ্য, পিট হেগসেথ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের পক্ষে গণমাধ্যমে সাফাই গেয়ে আসছেন। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা ‘বলির পাঁঠা’ খোঁজার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প আরও জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না।

অন্যদিকে, ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলের চাপে এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে এবং ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না।

একই বৈঠকে ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের সাথে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র প্রেক্ষিতে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আগামী পাঁচ দিনের জন্য সকল প্রকার বিমান হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘গত দুই দিনে ইরানের সাথে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যেই এই সাময়িক বিরতি দেওয়া হলো।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেসিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হন। এরপরই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে এবং পারস্য উপসাগরে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।

NB/
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত