যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরীগুলো 'খেলনা': ট্রাম্প

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ‘খেলনা’ বলে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুদ্ধের সময় লন্ডনের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের এইচএমএস কুইন এলিজাবেথ ও এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে সরাসরি খাটো করে দেখান। তার ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব রণতরীর কোনো প্রয়োজন নেই এবং এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডে 'সেরা' নয়।

তার বড় অভিযোগ যুদ্ধের শুরুতে মিত্ররা পাশে ছিল না। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন এককভাবে হামলা চালাচ্ছিল, তখন ন্যাটো জোটের অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসেনি। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেলে সহায়তার প্রস্তাবকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ঘিরে। ট্রাম্পের অভিযোগ, যুদ্ধের শুরুতে এই যৌথ ঘাঁটিতে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান নামার অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরবর্তী ঘাঁটি থেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অভিযান চালাতে হয়েছে, যা তার মতে 'বড় ভুল'।

যদিও পরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির পর যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ঘাঁটি খুলে দেয়। তবে ততক্ষণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়ে গেছে।

ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে নিয়েও সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তাকে 'ভালো মানুষ' বললেও, তার সিদ্ধান্তগুলোকে 'হতাশাজনক' আখ্যা দেন এবং বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে চাননি। এমনকি তাকে 'চার্চিল নন' বলেও কটাক্ষ করেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাজ্য এখনো তাদের বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেনি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে এমন সময়ে রণতরী পাঠালেও তা আর প্রয়োজন হবে না।

তবে যুক্তরাজ্য অন্য খাতে সক্রিয় রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি রুট সচল রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

একই সঙ্গে ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন হয়েছে, যার লক্ষ্য সাইপ্রাসকে সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে এই জাহাজটির যাত্রা বিলম্বিত হওয়া যুক্তরাজ্যের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

AS/FJ
আরও পড়ুন