ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার চলমান ব্যয়বহুল যুদ্ধের আর্থিক বোঝা নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে আরব মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছ থেকে তহবিল আদায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।
সোমবার (৩০ মার্চ) হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র লেভিট জানান, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের আদলে এবারও মিত্রদের কাছ থেকে যুদ্ধের খরচ বহন করতে বলতে পারেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে কুয়েতকে মুক্ত করার সময় গঠিত আন্তর্জাতিক জোট আমেরিকার যুদ্ধের খরচ মেটাতে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার (যা বর্তমান বাজার মূল্যে আরও অনেক বেশি) সংগ্রহ করেছিল। ট্রাম্প এখন সেই একই পথে হাঁটতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের পরিস্থিতি ১৯৯১ সালের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন কুয়েত আক্রান্ত হওয়ায় বৈশ্বিক সমর্থন ছিল, কিন্তু এবারের যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত না করেই শুরু করেছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প চান মিত্ররা এই বিপুল ব্যয়ভার ভাগ করে নিক।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ব্যয় হয়েছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার, যা ১২তম দিনে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। যুদ্ধের এক মাস পার হওয়ায় বর্তমানে এই ব্যয়ের অঙ্ক কল্পনাতীত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেন্টাগনের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করতে হোয়াইট হাউস মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ বরাদ্দের আবেদন করেছে।
ট্রাম্পঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক শন হ্যানিটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরানকে তাদের তেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে বাধ্য করা উচিত। তবে ইরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো মার্কিন হামলার কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ওয়াশিংটনের কাছেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হয়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৩.৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এক ডলারের বেশি। হোয়াইট হাউস একে সাময়িক বললেও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। সূএ: আল-জাজিরার।
‘অর্ধেক মিশন শেষ, ধ্বংসের মুখে ইরানের পরমাণু প্রকল্প’
হাইতিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৭০, গৃহহীন হাজারো মানুষ
