ইরানকে সমঝোতার জন্য আরও সময় দিলাম: ট্রাম্প

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করা বা কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই। তার ভাষায়, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই এগোচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে সবচেয়ে উপযুক্ত চুক্তি করার লক্ষ্যেই তারা সময় নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিক বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি। বরং তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তখনই কোনো চুক্তিতে যাবে, যখন সেটি তাদের জন্য লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানের ভেতরের রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এবং একটি একীভূত প্রস্তাব পাওয়ার আশায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমেনি, বরং কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় স্তরেই চাপা অস্থিরতা বজায় রয়েছে।

হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োজন হলে দ্রুত এবং কঠোর জবাব দিতে সক্ষম। তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেন এবং জোর দিয়ে বলেন, তার অগ্রাধিকার যুদ্ধ নয়, সমঝোতা।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এদিকে তেহরানে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আকাশে সন্দেহজনক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। কিছু লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে, যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে এবং নতুন করে কেউ যেন সেখানে না যান, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে।

AS/FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত