উড়োজাহাজে জন্ম নিলো কন্যাশিশু, জুতার ফিতায় বাঁধা হলো নাড়ি

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজে এক অভাবনীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সাক্ষী হলেন ১৫৩ জন যাত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। জরুরি এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় সহযাত্রী দুই প্যারামেডিক শেষ পর্যন্ত নিজেদের ‘জুতার ফিতা’ দিয়ে নবজাতকের নাড়ি বেঁধে প্রাণ রক্ষা করেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই মিরাকল ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়েছে। 

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যাশলি ব্লেয়ার তাঁর মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য অ্যাটলান্টা থেকে ওরেগনের পোর্টল্যান্ডগামী ডেল্টা এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ বিমানে উঠেছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে অবতরণের মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে হঠাৎ তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়। বিমানে তখন এক ধরণের হইচই পড়ে যায়।

সৌভাগ্যবশত একই বিমানে যাত্রী হিসেবে ছিলেন টিনা ফ্রিটজ ও কারিন পাওয়েল নামে দুই প্যারামেডিক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। বিমানে প্রসব করানোর মতো আধুনিক সরঞ্জাম না থাকায় তাঁরা উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগান। যাত্রীদের কাছ থেকে কম্বল সংগ্রহ করে অ্যাশলিকে নিরাপদ জায়গায় নেওয়া হয়। শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাড়ি বাঁধার জন্য সুতা না থাকায় তাঁরা নিজেদের জুতার ফিতা খুলে তা ব্যবহার করেন।

বিমানের ক্রু এবং যাত্রীদের সমবেত প্রচেষ্টায় জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাশিশু, যার নাম রাখা হয়েছে ব্রিয়েল রেনি ব্লেয়ার। শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৫.৫ পাউন্ড। নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগেই সে পৃথিবীর আলো দেখে। বিমানটি যখন অবতরণ করে, তখন এর যাত্রী সংখ্যা ১৫৩ থেকে বেড়ে ১৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে বিমানটি নামার সাথে সাথে রানওয়েতে অপেক্ষারত ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ’ দল মা ও নবজাতককে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা দুজনেই সুস্থ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

ডেল্টা এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে যাত্রী ও ক্রুদের এই সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। এই ঘটনার পর প্যারামেডিক টিনা ফ্রিটজ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘বিমানের সেই মুহূর্তটি ছিল জাদুকরী। মনে হচ্ছে আমরা এখন আজীবনের জন্য একটি পরিবারের মতো হয়ে গেছি।’

সূত্র: সিএনএন

NB
আরও পড়ুন