ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর অবশেষে দীর্ঘ ১১ মাস পর নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছে বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’।
শনিবার (১৬ মে) যুদ্ধজাহাজটি ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটিতে পৌঁছায়। রণতরীটির এই প্রত্যাবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন পরিস্থিতি এখনই শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক নিয়ে ২০২৫ সালের ২৪ জুন ভার্জিনিয়া উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। প্রথমে ভূমধ্যসাগর এবং পরে ভেনিজুয়েলার কাছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয় জাহাজটিকে। চলতি ২০২৬ সালের শুরুতে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ এবং ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে রণতরীটি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানে এই রণতরীটির ভূমিকা ছিল মুখ্য।
পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হলে জাহাজটিকে পশ্চিম এশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র একাধিক অভিযানে অংশ নেয় এটি। দীর্ঘ এই অভিযানকালে রণতরীটি কিছু সমস্যারও মুখোমুখি হয়; যার মধ্যে গত মার্চে জাহাজটিতে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি অন্যতম।
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের সঙ্গে একই নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনব্রিজ ও ইউএসএস মাহান। নরফোক ঘাঁটিতে নাবিকদের স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, আপনারা শুধু দায়িত্ব পালন করেননি, ইতিহাস তৈরি করেছেন। টানা ১১ মাস সমুদ্রে মোতায়েন থাকার মধ্য দিয়ে এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম সামরিক অভিযানের একটি রেকর্ড গড়েছে।
তবে এই যুদ্ধজাহাজটি ফিরে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ নেই। কারণ অঞ্চলটিতে এখনো মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং সম্প্রতি সেখানে যোগ দিয়েছে ‘জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষ আপাতত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এবং বিশ্বের বৃহত্তম রণতরীটি ফিরে গেলেও, মধ্যপ্রাচ্যে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং যেকোনো সময় বিচ্ছিন্ন হামলার জেরে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে।
লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি কমান্ডার নিহত
ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী