যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের করেছে হিজবুল্লাহ: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি বারবার ভঙ্গ হওয়ার জন্য হিজবুল্লাহকেই দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অবস্থান অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর হামলার কারণেই পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে এবং এর পেছনে শেষ পর্যন্ত ইরানের প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বাস করে যে হিজবুল্লাহই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

গত ১৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছিলেন, ভবিষ্যতে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তখন বিষয়টিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি বৃহত্তর সমঝোতার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহান্তে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার একটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে সামরিক অভিযান বা হামলা আরও বিস্তৃত না করার বিষয়ে সম্মত হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি। তার প্রতিক্রিয়াকে ওই কর্মকর্তা ‘এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাপূর্ণ এবং হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হিজবুল্লাহর দিক থেকে যে হামলাগুলো হচ্ছে, সেগুলো ইসরায়েলের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে সহ্য করা সম্ভব নয়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রথমে হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

ফলে একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে বৈরুতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানালেও, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান হলো, চলমান উত্তেজনার মূল কারণ হিজবুল্লাহ এবং সেই সূত্র ধরে এর দায় শেষ পর্যন্ত ইরানের ওপরও বর্তায়। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন