যুক্তরাষ্ট্রে ধূসর নেকড়ে ও এর একটি উপপ্রজাতি মেক্সিকান নেকড়ের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে পাওয়া ফেডারেল সুরক্ষা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি।
আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ধূসর নেকড়ে ও মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা প্রজাতি পুনরুদ্ধারের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছে কি না, তা মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানদণ্ড পূরণ হয়ে থাকলে তাদের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা সুরক্ষার মাত্রা কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশটির গবাদিপশু খাতকে সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পশুপালকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে দেশটির গবাদিপশুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে গত এক দশকে গরুর মাংসের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
এই আদেশ কার্যকর হলেই পশুপালকেরা তাৎক্ষণিকভাবে নেকড়ে হত্যা করার অনুমতি পাবেন, বিষয়টি এমন নয়। তবে সুরক্ষা প্রত্যাহার বা কমানোর প্রক্রিয়া এগোলে ভবিষ্যতে গবাদিপশুর ওপর নেকড়ের হামলা ঠেকাতে প্রাণী হত্যার সুযোগ বাড়তে পারে। আদেশে রাজ্যগুলোকে নেকড়ের সুরক্ষা-সংক্রান্ত নিজস্ব আইন ও প্রাণী হত্যার বিধি পর্যালোচনার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
সংরক্ষণবাদীরা অবশ্য এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ফেডারেল সুরক্ষা দুর্বল হলে কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়বে। ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপপরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বলেন, নেকড়েকে পশুপালনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যদিও গবাদিপশু খাতে নেকড়ের ক্ষতির প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত।
মেক্সিকান নেকড়ের ক্ষেত্রে সংরক্ষণবাদীদের উদ্বেগ আরও বেশি। ১৯৯৮ সালে পুনঃপ্রবর্তনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বন্য পরিবেশে এই নেকড়ের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩১৯-এ পৌঁছেছে। তবে এই সংখ্যা বৃদ্ধিকেই প্রজাতিটির পূর্ণ পুনরুদ্ধারের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জিনগত বৈচিত্র্যের সংকটসহ বেশ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ধূসর নেকড়ে রয়েছে। মানুষের কর্মকাণ্ডে তাদের আবাসস্থলের বড় অংশ নষ্ট হওয়ায় প্রজাতিটি এখনো বিভিন্ন মাত্রায় সুরক্ষার আওতায় রয়েছে।
নেকড়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের বিরোধের ইতিহাসও রয়েছে। উনিশ শতকের শেষ দিকে সরকার পরিকল্পিতভাবে নেকড়ে নিধন শুরু করেছিল। পাশাপাশি কৃষক ও ভূমিমালিকদের ফাঁদ পাতা এবং হত্যার কারণে দেশটিতে নেকড়ে প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।
সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, গবাদিপশু রক্ষায় নেকড়ে হত্যার বদলে ক্ষতিপূরণ ও প্রাণী না মেরে সংঘাত কমানোর কর্মসূচিতে জোর দেওয়া উচিত। তাদের দাবি, বর্তমানে নেকড়ের আক্রমণে গবাদিপশু হারালে পশুপালকেরা সরকারি ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগও রাখেন।
এর আগে ২০২২ সালে ধূসর নেকড়েকে ফেডারেলভাবে সুরক্ষিত প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আইনি জটিলতায় আটকে যায়। এবারও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। খরা ও গবাদিপশুর মধ্যে পরজীবী সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পশুপালকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে মাংসের দাম কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও। সূত্র: সিএনএন
ইরানের সঙ্গে সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছোটখাটো বিষয়: ট্রাম্প
প্লাস্টিক সার্জারিতে চেহারা বদলানোয় বিমানবন্দরে আটক
চীনে বিক্রির জন্য ইরানের তেল ফুরিয়ে আসছে: বেসেন্ট