প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলো কমলার, কিন্তু কেন?

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৪ পিএম

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হোয়াইট হাউসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ ছিল কমলা হ্যারিসের। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশটির মসনদে বসতে কমলার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বিষয়ে বিতর্কিত হওয়ায় অনেকেই ভেবেছেন এবার হয়ত চমক থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে। তবে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৫ নভেম্বর বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রিপাবলিকানদের এমন জয় এবং ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করেছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সামনে আনছেন বিভিন্ন মতামত।

বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন মূলত কী কারণে হোয়াইট হাউসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলো কমলার, লিঙ্গ বৈষম্য, সময় স্বল্পতা নাকি জনপ্রিয়তার অভাব?

এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আন্দ্রা গিলেসপির মতে, বাইডেন প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা হারানো, জনপ্রিয়তার অভাব, প্রচারণায় সময় স্বল্পতা এবং নারী প্রেসিডেন্ট নিয়ে মার্কিনদের মধ্যে আস্থার অভাব, এ বিষয়গুলোই কমলা হ্যারিসের পরাজয়ের মূল কারণ।
 
তার মতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো এক দফায় প্রেসিডেন্ট থাকা নেতার বিপক্ষে লড়াই করার জন্য যথেষ্ট সময় পাননি কমলা। এই কম সময়েও তুলনামূলকভাবে স্বল্প পরিচিত এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী যতটুকু পথ পাড়ি দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবিদার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
অপরদিকে আগে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতাই ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার অন্যতম কারণ। ভোটারদের কাছে কমলার নেতৃত্বের বিষয়টি পুরোপুরি নতুন। এ অবস্থায় পরিচিত শাসকের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়াই তাদের কাছে সমীচিন মনে হয়েছে বলেও মনে করেন অধ্যাপক গিলেসপি।
 
এই অধ্যাপক আরও বলেন, কমলার সরকার কেমন হবে এ বিষয়ে মানুষের কোনো ধারণা নেই। তারা শুধু জানতো যে বাইডেন প্রশাসনের মতো একটি অ-জনপ্রিয় সরকারের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে আছে। এছাড়া, লিঙ্গ বৈষম্যও একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা তার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী ক্ষমতায় এলেও মার্কিন ভোটারদের অনেকেই মনে করেন বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ক্ষমতা এবং মনোবল প্রয়োজন, তা একজন নারীর নেই। এ কারণেও অনেকের কাছেই কমলার তুলনায় ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তবে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো জরিপ না থাকায়, শক্তভাবে কোনো মন্তব্য করেননি অধ্যাপক।
 
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ডেমোক্রেটদের পরাজয়ের জন্য জো বাইডেনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পেলোসি বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন নির্বাচন থেকে আরও আগে সরে দাঁড়ালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আরও প্রার্থী থাকতে পারত।

শনিবার (৯ নভেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হতে কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী প্রচার ও বিতর্ক চলে। বাইডেন পুনরায় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর ডেমোক্রেটিক পার্টি আর কোনো প্রার্থী বাছাই করেনি। নির্বাচনের চার মাস আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে ধরাশায়ী হওয়ার পর বাইডেন সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
 
এ সময় ডেমোক্রেটিক পার্টি তড়িঘড়ি করে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী মনোনীত করে। সাক্ষাৎকারে পেলোসি নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তড়িঘড়ি করে কমলা হ্যারসিকে প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় বাইডেনের সমালোচনা করেন।
 
এ ছাড়াও ওই সাক্ষাৎকারে কমলা হ্যারিসের প্রশংসা করে পেলোসি বলেন, তিনি মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে কমলা জিততেন বলে মনে করেন পেলোসি। তিনি বলেন, হয়তো কমলা আরও বেশি শক্তিশালী হতেন। জনগণের আরও কাছে যেতে পারতেন। বাইডেন কমলা হ্যারিসকে দ্রুত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ায় সে সময় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। যদি সবকিছু আরও আগে ঘটত, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা হতো।

SN/FI
আরও পড়ুন