দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে বসতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই প্রত্যাবর্তনে ফলে মার্কিন মুলুকে আবারও জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে। যা ফলে এরই মধ্যে দেশটিতে কর্মরত ভারতীয়দের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
ইতিমধ্যেই পালাবদলের নেতিবাচক ফল ভোগ করতে শুরু করেছেন ভারতীয়রা। অনেকে কাজের সুযোগ পেয়েও কাজে যোগ দিতে পারছেন না। কারণ, পুরো প্রক্রিয়াটিই হয়তো অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে।
কেউ আবার চাকরির অফার পাওয়ার পরও সেই অফার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকেই চাকরির সুযোগ পেলেও ভিসা পাচ্ছেন না। এই সমস্ত লক্ষণগুলো মার্কিন মুলুকে কাজ করা ভারতীয়দের জন্য মোটেও শুভ নয় বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকা ও হায়দরাবাদের আটজন ভারতীয় পেশাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনকে চাকরির অফার দেওয়ার পরও তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারণ, হিসাবে দেখানো হয়েছে – ‘ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা।’
মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে যত পরিমাণ এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন করে, তার সিংহভাগই থাকে ভারতীয়দের কাছে। যেমন - ২০২৩ সালে মোট যত জনকে এই ভিসা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ভারতীয় ছিলেন প্রায় ৭২ শতাংশ। যার ফলে, এই ভিসার নিয়ম কঠোর হলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্তও হবেন ভারতীয়রাই।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ইলন মাস্ক যতই যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশিদের চাকরি দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করুন না কেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প একবার প্রেসিডেন্ট পদে ফিরলেই ভিসা নীতি আরও কঠোর করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ, যারা তাকে ভোটে জিতিয়ে ফের একবার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসিয়েছেন, সেই আম-মার্কিন ভোটারদের একটা বড় অংশই মনে করেন, ভারতীয়সহ অন্যান্য বিদেশিরা তাদের কাজের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছেন।
যার ফলস্বরূপ ট্রাম্প যখনই কোনো উঁচু পদে কোনো ভারতীয়কে নিযুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে, এইচ-১বি ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি কঠোর করাটা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
ক্ষমতায় বসেই ১৮ হাজার ভারতীয়কে তাড়াবেন ট্রাম্প
