জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিমানে এবং তোত্তোরি প্রিফেকচারে মঙ্গলবার সকালে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। ভূমিকম্পের ফলে ওই অঞ্চলে ট্রেন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব শিমানে প্রিফেকচারের ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানিজ সিসমিক ইনটেনসিটি স্কেলে এর তীব্রতা ছিল 'স্ট্রং ৫'। শিমানে প্রিফেকচারের মাতসুয়ে ও ইয়াসুগি এবং তোত্তোরি প্রিফেকচারের সাকাইমিনাতোসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।
১০টা ১৮ মিনিটের মূল কম্পনের পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ওই এলাকায় অন্তত ১০টি ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক জরুরি বিবৃতিতে জানান, সরকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং পরবর্তী কয়েক দিন আরও কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই অঞ্চলে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হিরোশিমা ও ওকায়ামার মধ্যে চলাচলকারী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন সার্ভিস স্থগিত করা হয়। ফলে হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে আটকা পড়েন। এছাড়া অনেক এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য জাপানি মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আঘাত হানা এই ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি জাপানে এই বছরের এখন পর্যন্ত শক্তিশালী কম্পন। এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি নটো উপদ্বীপে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ৬৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আজকের ভূমিকম্পটি সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে আবারও মনে করিয়ে দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: জাপান টাইমস
পরপর দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত, আফটারশকের শঙ্কা
মেক্সিকোতে ভূমিকম্প, ব্রিফিং ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট
