রাশিয়ার কারাগারে বন্দী অভিবাসীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর এক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনটিতে ২৬ বছর বয়সী তাজিক যুবক হুশরুজজন সলোহিদিনভের জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে, যিনি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে কুরিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু গত বছর একটি চুরির অপবাদে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৯ মাস বিনাবিচারে আটকে রাখার পর যখন পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বিচার শুরু করা যাচ্ছিল না, তখন শুরু হয় নতুন আপদ। কারাগারের কর্মকর্তারা তাকে হুমকি দেন, যদি তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে যাওয়ার জন্য ‘স্বেচ্ছাসেবী’ হিসেবে সই না করেন, তবে তাকে জেলের ভেতর যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হবে।
মানবাধিকার সংস্থা এবং ‘হোচু জিত’ (আমি বাঁচতে চাই) নামক ইউক্রেনীয় গোষ্ঠীর মতে, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের শ্রমিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের সরাসরি সেনাদপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যাদের রুশ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদেরও নাগরিকত্ব বাতিলের ভয় দেখিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। এই অভিবাসী যোদ্ধাদের যুদ্ধের ময়দানে গড় আয়ু মাত্র চার মাস। তাদের কোনো সঠিক প্রশিক্ষণ বা মানসম্মত সরঞ্জাম দেওয়া হয় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে বিপুল অংকের অর্থ প্রায় ২৬,০০০ ডলারের সাইন-আপ বোনাস এবং মাসিক প্রায় ২,৬০০ ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেয়। সাথে দেওয়া হয় সকল অপরাধ থেকে ক্ষমার আশ্বাস। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ‘স্বেচ্ছাসেবী’ হওয়ার পেছনে থাকে ভয়াবহ নির্যাতন। সলোহিদিনভ জানান, তার ইউনিটের ২৮ জনের মধ্যে ২১ জনই ছিলেন মুসলিম, কিন্তু রুশ কর্মকর্তারা তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে জোর করে শুকরের মাংস খাওয়াতেন এবং প্রতিনিয়ত বর্ণবাদী ও ইসলামফোবিক গালিগালাজ করতেন।
সলোহিদিনভ আরও জানান, যুদ্ধের মাত্র চতুর্থ দিনে তাকে একটি ‘আত্মঘাতী’ মিশনে পাঠানো হয়। সেই সুযোগে তিনি এবং তার কমান্ডার স্বেচ্ছায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি বলেন, আমি খুশি যে আমি বন্দি হয়েছি। এখন অন্তত আমাকে কারো বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে না বা জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে হচ্ছে না।
বর্তমানে তিনি তাজিকিস্তানে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন, কারণ রাশিয়াতে ফেরত পাঠানো হলে তাকে আবারও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।
এদিকে রাশিয়ার চিফ প্রসিকিউটর আলেকজান্ডার বাস্ট্রিকিন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, ২০২৫ সালেই ২০,০০০ মধ্য এশীয় অভিবাসীকে ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়েছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, রুশ জনসাধারণের মধ্যে বিদ্যমান অভিবাসী-বিদ্বেষকে পুঁজি করে ক্রেমলিন এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ১৮
ইসরায়েলে নজিরবিহীন ‘মৌমাছির হানা’, শহরজুড়ে আতঙ্ক