ইউক্রেনে বৃষ্টির মতো হাইপারসনিক মিসাইল ছুঁড়ছে রাশিয়া

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভ, দনিপ্রো, খারকিভ, জাপোরিঝঝিয়া ও আরও কয়েকটি অঞ্চল হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, এক রাতেই রাশিয়া ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬৫৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা চলমান যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের পর আবাসিক ভবনে আগুন লাগে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে দনিপ্রো শহরেও প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালান।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই হামলা ইউক্রেনের কথিত 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের' জবাবে পরিচালিত হয়েছে। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা, বিমানঘাঁটি এবং পরিবহন সুবিধাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, হামলার বড় অংশই বেসামরিক এলাকা ও আবাসিক স্থাপনাগুলোর ওপর আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে রাশিয়া একটি বড় ধরনের নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সর্বশেষ আক্রমণের পর তিনি আবারও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক এই হামলা ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও তীব্র ও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি আকাশপথেও সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ক্রমেই বড় ভূমিকা পালন করছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

AS
আরও পড়ুন