বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সংঘাত এবং অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। চার দেশীয় আফ্রিকা সফরের শেষ পর্যায়ে মঙ্গলবার নিরক্ষীয় গিনিতে এক শক্তিশালী ভাষণে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রথম মার্কিন পোপ হিসেবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান সরব হওয়া লিও পৃথিবীর তেল ও খনিজসম্পদ নিয়ে চলা ‘নব্য উপনিবেশবাদের’ তীব্র সমালোচনা করেন, যা তার মতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরক্ষীয় গিনির প্রেসিডেন্ট তেওডোরো ওবিয়াং এনগুয়েমা এমবাসোগো এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে ১.৪ বিলিয়ন ক্যাথলিকের এই ধর্মগুরু বলেন, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি সম্মান না দেখালে মানবজাতির নিয়তি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আধিপত্য বিস্তার, অহংকার বা বৈষম্যের জন্য ঈশ্বরের পবিত্র নামকে কলুষিত করা উচিত নয় এবং কোনোভাবেই মৃত্যুর পক্ষে যুক্তি দিতে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। তার এই মন্তব্যকে রক্ষণশীল বিশ্লেষকরা মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী নীতির পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখছেন।
আফ্রিকা সফরের এই পর্যায়ে পোপ লিও তার পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১০ দিনের এই সফরে তিনি যুদ্ধ, বৈষম্য এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলছেন। এর আগে অ্যাঙ্গোলা সফরে তিনি শোষক ও ধনীদের দ্বারা সাধারণ মানুষের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সাল থেকে নিরক্ষীয় গিনির ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওবিয়াং বিশ্বের অন্যতম দমনমূলক নেতা হিসেবে সমালোচিত হলেও তার সরকার সব সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বুধবার বাতা শহরে একটি উচ্চ-নিরাপত্তার ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শনের কথা রয়েছে পোপের, যেখানে রাজনৈতিক বন্দিদের বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের। এ ছাড়া ২০২১ সালে সামরিক ব্যারাকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির স্থানেও প্রার্থনা করবেন তিনি।
মানবাধিকার কর্মীদের প্রত্যাশা, স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া পোপের এই বক্তব্যগুলো অঞ্চলে মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সূত্র: রয়টার্স
