বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং সামরিক খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্যামেরুনের বামেন্ডা শহরে এক সমাবেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্ব 'মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরশাসকের হাতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।' তিনি সেইসব নেতাদেরও কঠোর নিন্দা জানান, যারা যুদ্ধের যৌক্তিকতা দিতে গিয়ে ধর্মের অপব্যবহার করেন।
পোপ লিওর এই কড়া বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পোপকে 'পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর জবাবে পোপ লিও বলেন, 'এটি একটি উল্টে যাওয়া বিশ্ব—যেখানে হত্যা ও ধ্বংসের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, অথচ শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য কোনো সম্পদ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।'
তিনি আরও বলেন, 'যারা নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভের জন্য ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করে যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গায়, তাদের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের ঘৃণা করা উচিত। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে লক্ষ্য করে, যিনি ইরান যুদ্ধের সমর্থনে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।'
ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলে গত এক দশকে সরকারি বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াইয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু বামেন্ডা সফরে গিয়ে পোপ ‘পথ পরিবর্তনের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানান। পোপের সফর উপলক্ষে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করায় সেখানে এক ক্ষীণ আশার আলো দেখা দিয়েছে।
পোপ লিও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই দীর্ঘ লড়াই এখনো ‘ধর্মীয় যুদ্ধে’ রূপ নেয়নি। তিনি আশা করেন, খ্রিষ্টান ও মুসলিম নেতারা আলোচনার মাধ্যমে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানতে পারবেন।
এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বা বিশ্বনেতাদের অন্যায় নিয়ে কথা বলা তিনি বন্ধ করবেন না। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ধ্বংস করতে কেবল একটি মুহূর্ত লাগে, কিন্তু তা পুনরায় গড়ে তুলতে একটি জীবনকালও যথেষ্ট নয়। ৯৩ বছর বয়সী ক্যামেরুনীয় প্রেসিডেন্ট পল বিয়াকেও তিনি দুর্নীতি নির্মূল এবং ক্ষমতাশালীদের খেয়ালখুশির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সূত্র: রয়টার্স
অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি পেন্টাগনের
যুদ্ধে না গেলে রাশিয়ার বন্দী অভিবাসীদের নির্যাতনের হুমকি