পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ন্যাটো নিজেদের কার্যক্রম ও কৌশল সমন্বয় করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের। আগামী ৭-৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে রয়টার্সকে দেওয়া লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
তুরস্কের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। আঙ্কারা আশা করছে, এই সম্মেলন জোটের ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে এবং প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে নতুন বার্তা দেবে।
ইয়াসার গুলের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে তুরস্ক কোনো সংকট হিসেবে দেখছে না; বরং পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশের সঙ্গে ন্যাটোর অভিযোজন প্রক্রিয়া হিসেবে মূল্যায়ন করছে। তাঁর মতে, ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় ন্যাটো এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অনন্য প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে সরে যেতে চায় না। বরং ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং কানাডা ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও বেশি দায়িত্ব নেবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির আলোচনা আঙ্কারা সম্মেলনে আরও গতি পেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গুলের জানান, সম্মেলনে মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, শক্তিশালী আন্তঃআটলান্টিক প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা, জোটের ঐক্য পুনর্ব্যক্ত করা এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। তাঁর ভাষায়, ন্যাটোর নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি জোটের বিদ্যমান পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাও সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
ইউরোপের প্রতিরক্ষা উদ্যোগে তুরস্ককে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না করার সমালোচনা করে গুলের বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারের প্রচেষ্টা ইতিবাচক হলেও তা যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ককে এসব উদ্যোগের বাইরে রাখা কৌশলগতভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইউরোপকে আরও দূরদর্শী অবস্থান নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ন্যাটোর নির্ধারিত ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যে তুরস্ক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান গুলের। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে ব্যয় বাড়িয়ে ২০২৯ সালের মধ্যেই নির্ধারিত সামরিক সক্ষমতার লক্ষ্য পূরণ করতে চায় আঙ্কারা। এ জন্য ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, নৌ প্রকল্প, মানববিহীন প্রযুক্তি এবং সাইবার সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘স্টিল ডোম’ যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার লক্ষ্যও রয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট অথবা ফ্রান্স-ইতালির যৌথভাবে তৈরি এসএএমপি-টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সম্ভাবনাসহ সব বিকল্প বিবেচনা করছে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তিতে যেকোনো উদ্যোগে তুরস্ক আগ্রহী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সময়ে সময়েই কারিগরি ও রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সূত্র: রয়টার্স
জ্বালানি খুচরা বিক্রেতাদের দাম কমানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প
মস্কোতে ইউক্রেনের বৃহৎ ড্রোন হামলা, নিহত ছয় মাসের শিশু
স্টারমারের উত্তরসূরির কাছে নীতিগত পরিবর্তনের জোরালো দাবি
ভারতে ভোটার তালিকায় বাদ পড়াদের কল্যাণ সুবিধা হারানোর শঙ্কা