ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিয়েভের পশ্চিমে বুচা জেলার মিলা এলাকায় ওই গুদামে হামলার পর সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গুদামটিতে বিস্ফোরক বা গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪২ জন। হামলাস্থল থেকে তিন শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেস্তোরাঁয়ও।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, মিলা গ্রামের একটি গুদামে হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটে। তবে আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, নিয়ম অনুযায়ী বাড়িঘর বা আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ রাখা নিষিদ্ধ।
ঘটনার পর গুদামে বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ আইনসম্মত ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ইউক্রেনীয় প্রসিকিউটররা।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি ঘটনাটিকে গুরুতর অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এর আগে জুলাইয়ে কিয়েভের কাছে একটি গোলাবারুদ গুদামে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের পরও নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ উঠেছিল।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দাবি, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। গুদাম হামলার পাশাপাশি কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই বছরের একটি শিশুও রয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ক্রিমিয়ার রুশ-নিয়ন্ত্রিত সেভাস্তোপোলে আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে। এসব হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুদাম, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুদ্ধবাজ ইসরায়েলের উসকানি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য হুমকি: এরদোয়ান
হেগসেথকে অভিশংসনের দাবি মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের
নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৬১৬, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার