জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাশিয়া থেকে তেল কিনবে ভারত

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিলেও ভারত সরকার তার নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছে। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। একই সাথে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়বে না বলেও জানানো হয়েছে।

ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অর্ধেকের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক (দৈনিক ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল) এই প্রণালী দিয়েই আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পক্ষের সাথে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি।

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার বিষয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কিছু শর্ত থাকলেও বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন সুর নরম করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ভারতীয় শোধনাগারগুলোর জন্য আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিনের একটি বিশেষ ‘ওয়েভার’ বা ছাড় ঘোষণা করেছেন। ফলে এই সময়ের মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল সংগ্রহে কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি এর আগে সংসদে জানিয়েছিলেন, ভারতের কৌশলগত মজুদ এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর কাছে থাকা মজুত দিয়ে প্রায় ৭৪ থেকে ৯০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের রাস তানুকা এবং ইরাকের রুমাইলা তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনার পর ভারত তার ‘হোয়াট ইফ’ (জরুরি অবস্থা) পরিকল্পনা জোরদার করেছে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি বর্তমানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও তা মোকাবিলায় ভারতের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাপ্লাই চেইন এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

NB
আরও পড়ুন