কে বলে অলৌকিক ঘটনা ঘটে না? উত্তরপ্রদেশের পিলভিটে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। চিকিৎসকরা যে নারীকে ‘ব্রেইন ডেড’ ঘোষণা করেছিলেন এবং যার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি বাড়িতে শুরু হয়ে গিয়েছিল, সেই নারীই অ্যাম্বুলেন্সের একটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ফিরে পেলেন নিজের জীবন। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
পিলভিটের বাসিন্দা বিনীতা শুক্লা গত ২২ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি দেখে বেরেলির একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েকদিন ভেন্টিলেটরে থাকার পর চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেন। বিনীতার শরীরে কোনো নড়াচড়া ছিল না এবং তার চোখের মণিও স্থির হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, তিনি প্রায় ‘ব্রেইন ডেড’ হয়ে গিয়েছিলেন।
পরিবার যখন আশা ছেড়ে দিয়ে ভেন্টিলেটর খুলে তাকে শেষকৃত্যের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। রাস্তার একটি গর্তের কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রচণ্ড জোরে ঝাঁকুনি খায়। আর সেই মুহূর্তেই বিনীতার নিশ্বাস-প্রশ্বাস ফিরে আসে। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থাকা স্বজনরা চমকে যান এবং তাকে দ্রুত পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসার পর তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ।
এই ঘটনা কি শুধুই একটি চমৎকার না কি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে? দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের (RML) নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. অজয় চৌধুরী বলেন, ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সত্যিকারের ‘ব্রেইন ডেড’ ব্যক্তি পুনরায় জীবিত হওয়া সম্ভব নয়। বিনীতার ক্ষেত্রে হয়তো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছিল অথবা ‘ক্লিনিক্যাল ডেথ’ ও ‘ব্রেইন ডেথ’-এর সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝতে চিকিৎসকদের ভুল হয়েছিল।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর কোমা (Deep Coma), গুরুতর হাইপোথার্মিয়া (শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া) অথবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ওভারডোজের কারণে শরীর ‘ব্রেইন ডেড’-এর মতো আচরণ করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে রোগীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
পিলভিটের এই ঘটনাটি বর্তমানে পুরো ভারতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দাফন বা শেষকৃত্যের প্রস্তুতির মাঝখানে প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে পরিবারটির আনন্দ এখন সীমাহীন।
‘অলৌকিক’ভাবে জেগে উঠেছেন কোমায় থাকা অজি ব্যাটসম্যান
