ভারতের সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নামক এই বিলটি পেশ করা হবে।
বর্তমানে ভারতের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ নারী। নতুন এই সংস্কার কার্যকর হলে এই সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উন্নীত হবে, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডের কাছাকাছি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বেড়ে প্রায় ৮৫০টিতে দাঁড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সিদ্ধান্তকে 'সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত; এবং নারী ক্ষমতায়নের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে আসন পুনর্নির্ধারণের এই পরিকল্পনা ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা—এই পাঁচটি রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উত্তরের রাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক কম। ফলে জনসংখ্যাভিত্তিক আসন বণ্টনের কারণে দক্ষিণের রাজ্যগুলো সংসদে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব হারানোর ভয় পাচ্ছে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এই পরিকল্পনাকে 'বিশাল ঐতিহাসিক অবিচার' বলে আখ্যা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি এই বিলের প্রতিবাদে কালো পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্রস্তাবিত বিলের অনুলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁর প্রশ্ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে কি শাস্তি দেওয়া হচ্ছে?
বিরোধী দলগুলো সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) এমপি জন ব্রিটনস বিবিসিকে জানিয়েছেন, 'তারা নারী কোটাকে সমর্থন করলেও নির্বাচনের মাঝপথে আসন বাড়ানোর এই তাড়াহুড়ো নিয়ে উদ্বিগ্ন।' তিনি জনসংখ্যা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর স্থগিতাদেশ বজায় রাখার দাবি জানান।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিলে কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। দিল্লিভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘বিধি সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসি’-র অর্ঘ্য সেনগুপ্ত জানান, লোকসভার আসন ৮৫০-এ উন্নীত করা হলেও রাজ্য বিধানসভাগুলোর আসন সেই অনুপাতে বাড়ানো হচ্ছে না। এছাড়া ২০১১ সালের পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কেন এই সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বিজেপি এমপি কে লক্ষ্মণ জানিয়েছেন, কোনো রাজ্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে ‘প্রো-রাটা’ ভিত্তিতে আসন বণ্টনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সরকার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, নতুন আদমশুমারির জন্য অপেক্ষা করলে ২০২৯ সালের মধ্যে নারী কোটা কার্যকর করা সম্ভব হবে না, যা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কারকে আরও পিছিয়ে দেবে।
সব মিলিয়ে, নারী অধিকারের এই বিলটি একদিকে যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: বিবিসি
যুদ্ধবিরতিই ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার দুয়ার খুলবে: জোসেফ আউন
ইসরায়েলে নজিরবিহীন ‘মৌমাছির হানা’, শহরজুড়ে আতঙ্ক