ইউক্রেনজুড়ে চলতি বছরের অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো এই ভয়াবহ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১১৮ জনেরও বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এবং জরুরি সেবা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬৫৯টি ড্রোন এবং ৪৪টি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা এবং দনিপ্রোর মতো জনবহুল এলাকা।
রাজধানী কিয়েভে একটি বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; এখানে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৮ জন। ওডেসা শহরে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, যেখানে একটি আবাসিক ভবনে প্রথমে ড্রোন এবং পরে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় একই ভবনের আটজন বাসিন্দা প্রাণ হারান।
শহরটির ন্যাশনাল মিউজিক একাডেমির হোস্টেলটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এছাড়া মধ্য ইউক্রেনের দনিপ্রোতে ৩ জন এবং দক্ষিণ-পূর্বের জাপোরিঝজিয়ায় অন্তত ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা এই ঘটনাকে ‘গণবেসামরিকদের ওপর চালানো একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে ইতালি সফরে থাকা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়া কেবল যুদ্ধের ওপরই বাজি ধরছে। তিনি বলেন, 'রাশিয়া বৈশ্বিক নীতির কোনো শিথিলতা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যোগ্য নয়।'
জেলেনস্কি ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেলার সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনা করার সময় এই হামলার খবর পান। সূত্র: সিএনএন
ড্রোন বিধ্বস্তের খবর নিশ্চিত করলো যুক্তরাষ্ট্র