ভারতে পুরনো মসজিদকে মন্দির ঘোষণা 

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে প্রায় হাজার বছরের পুরনো কামাল মাওলার দরগা এবং মসজিদকে সরস্বতী মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মুসলিমদের নামাজ পড়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ভিন্ন স্থান চেয়ে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

ভোজশালা-কামাল মওলানার দরগা এবং মসজিদকে ঘিরে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, মসজিদটি আসলে রাজা ভোজের তৈরি প্রাচীন সরস্বতী মন্দির। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ এই স্থাপত্যটিকে কামাল মাওলা মসজিদ হিসেবে দাবি করেন। 

বিরোধ মেটাতে প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজা এবং শুক্রবারে মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার। সপ্তাহের অন্যান্য দিন যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন। তবে সেই দিনগুলোতে কাউকে পুজা দিতে বা নামাজ পড়তে দেওয়া হয় না। তবে ভোজশালায় মুসলিমদের নামাজ পড়ার ইতি টানতে চেয়ে ২০২২ সালে আদালতের দ্বারস্থ হয় ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’-সহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। সেখানে একচ্ছত্র ভাবে হিন্দু উপাসনার রীতি চালু করতে চেয়েছিল তারা। 

হিন্দুদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) ওই মসজিদের ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ করতে নির্দেশ দেয় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। ৯৮ দিন ধরে সমীক্ষা চালানোর পর আদালতে এএসআই প্রতিবেদন জমা দেয়। দু’হাজার পাতার সেই প্রতিবেদনে এএসআই জানিয়েছিল, বর্তমানে যেখানে মসজিদ রয়েছে, সেখানে আগে পারমার বংশের আমলে তৈরি বিশাল একটি কাঠামো ছিল।

শুক্রবার এই মামলাতেই হিন্দুদের পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল এবং বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ। 

রায়ে আদালত জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্যও প্রমাণ করে যে, বিতর্কিত এলাকায় রাজা ভোজের সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। তাই অংশটিকে মন্দির হিসাবে ঘোষণা করা হচ্ছে।

বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ভোজশালার ওই অংশের সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার তত্ত্বাবধান করবে এএসআই। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। লন্ডনের জাদুঘর থেকে সরস্বতীর প্রতিমা নিয়ে এসে ভোজশালায় স্থাপন করতে চান হিন্দু পক্ষের আবেদনকারীরা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তার জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। আদালত জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করে দেখতে পারে।

এছাড়াও নামাজ পড়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ভিন্ন স্থান চেয়ে নিতে মুসলিম পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। তবে এই রায় ও সমীক্ষার প্রতিবেদনকে রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করেছে মুসলিম পক্ষ। 

সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত