শান্তিতে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার চিত্র তুলে ধরা গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) ২০২৬-এ ১৬৩টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১১৭তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এ ক্ষেত্রে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ‘মধ্যম শান্তি’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। পাঁচের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ২.২২৬। জিপিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের স্কোর যত কম, দেশটি তত বেশি শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্বের প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ জনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে ১৬৩টি স্বাধীন রাষ্ট্র ও অঞ্চল নিয়ে এবার প্রকাশিত হয়েছে সূচকটির ২০তম সংস্করণ। সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সামরিকীকরণ, এই তিনটি প্রধান ক্ষেত্রের ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় স্কোর ২.৫৭৯, চলমান সংঘাতে ২.২৩৭ এবং সামরিকীকরণে ১.৬১৫।

এবারও বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে আইসল্যান্ড। ১.১৬১ স্কোর নিয়ে টানা ১৯ বছর ধরে শীর্ষে রয়েছে দেশটি। এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া এবং আয়ারল্যান্ড।

অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে রাশিয়া। তালিকায় এরপর রয়েছে সুদান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইউক্রেন এবং ইসরায়েল।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে ভুটান। বৈশ্বিক তালিকায় দেশটির অবস্থান ১৬তম। এ অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে ভুটানকে উচ্চ শান্তির ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যার বৈশ্বিক অবস্থান ৬৭তম। তৃতীয় স্থানে থাকা নেপাল রয়েছে ১১১তম অবস্থানে। বাংলাদেশের পর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ১২৭তম। সূচকে অবনতির কারণে ভারত এবার নিম্ন শান্তির শ্রেণিতে নেমে গেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান রয়েছে যথাক্রমে ১৫২ ও ১৫৭তম স্থানে। এ দুই দেশ অঞ্চলটির সবচেয়ে অশান্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শান্তির মাত্রা ০.৭ শতাংশ কমেছে। টানা ১২ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে শান্তি পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। মূল্যায়নের আওতায় থাকা ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৯টির অবস্থার অবনতি হয়েছে, আর উন্নতি হয়েছে ৬২টির।

প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তাও দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং চাহিদার পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশকে সরাসরি ভোগ করতে হতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট গভীর হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ সময় অচলাবস্থা তৈরি হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় জিডিপির ১.৫ থেকে ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।  সূত্র: গ্লোবাল পিস ইনডেক্স

AS
আরও পড়ুন