ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী: আইআরজিসি

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসী ও তাদের উদ্ধারে নিয়োজিত জাহাজগুলো লিবিয়ার বিভিন্ন গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা এসওএস মেডিতেরানি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংস্থাটি জানায়, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দিন দিন আরও ‘বৈরী’ হয়ে উঠছে। অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতা বাড়ার কারণেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত ভূমধ্যসাগরের এই রুটে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান। এসওএস মেডিতেরানি এই অঞ্চলে অভিবাসীদের নজরদারি ও উদ্ধারে কাজ করা জাহাজ ও বিমানের একটি নেটওয়ার্কের অংশ।

সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে অন্তত সাতটি ঘটনায় লিবিয়ার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যুক্ত নৌযান দ্রুতগতিতে উদ্ধারকারী জাহাজের কাছে চলে আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব নৌযান ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্ধারকারী জাহাজকে অনুসরণ করে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা পর্যন্ত ধাওয়া করে।

এ সময় লিবিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা অনেক অজ্ঞাত দ্রুতগতির নৌযানের উপস্থিতিও বেড়েছে। এসওএস মেডিতেরানি বলছে, এসব নৌযান বিপদে থাকা অভিবাসীদের বহনকারী নৌকায় ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়াসহ বিপজ্জনকভাবে নৌযান চালিয়েছে। এতে মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

গত বছর সংস্থাটি লিবিয়ার কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ওশান ভাইকিং’-এ হামলার অভিযোগ করেছিল। তাদের দাবি, ওই ঘটনায় ১০০টির বেশি গুলি ছোড়া হয়। এতে জাহাজটির ৮৭ জন উদ্ধার করা অভিবাসী ও ক্রুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।

ঘটনাটি নিয়ে ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে তাদের অভিযোগ, ইউরোপীয় ও জাতীয় কর্তৃপক্ষগুলো এ বিষয়ে নীরব রয়েছে এবং হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

এসওএস মেডিতেরানি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মধ্য ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে একই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই পথে অভিবাসীদের যাত্রা কমেছে।

আইওএমের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগরে ৮২১ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১১১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, একই সময়ে এই পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা ৪৬ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৫৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।ইরানের কাছে সীমিতসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে-মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন দাবি নাকচ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অটুট রয়েছে এবং উৎপাদনও অব্যাহত আছে।

সোমবার এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত একসময় শেষ হয়ে যাবে-শুরুতে কেউ কেউ এমন ধারণা করেছিলেন। তবে বাস্তবে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনও বন্ধ হয়নি।

মোহেব্বির দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও আরও উন্নত হয়েছে। এগুলো এখন শুধু আগে থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া হয় না; উড্ডয়নের সময় ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন ও লক্ষ্য অনুসরণ করার সক্ষমতাও রয়েছে।

আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালায়। এর মধ্যে আসালুয়েহর সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রও ছিল। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলের অবকাঠামো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সহজে সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। এ কারণে ওয়াশিংটন এখন সামরিক পদক্ষেপের বদলে অর্থনৈতিক চাপের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্রের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, এটি ইরানের জন্য যুদ্ধের অন্যতম অর্জন।

মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল একই সময়ে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা একাধিক ফ্রন্টে একসঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তাঁর দাবি, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে কিংবা চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তৈরি হলে দীর্ঘপাল্লার ও কৌশলগত অস্ত্রের কতটা মজুত থাকবে, তা নিয়েও প্রতিপক্ষকে ভাবতে হচ্ছে।

এটিটিআর
আরও পড়ুন