ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসী ও তাদের উদ্ধারে নিয়োজিত জাহাজগুলো লিবিয়ার বিভিন্ন গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা এসওএস মেডিতেরানি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সংস্থাটি জানায়, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দিন দিন আরও ‘বৈরী’ হয়ে উঠছে। অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতা বাড়ার কারণেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত ভূমধ্যসাগরের এই রুটে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান। এসওএস মেডিতেরানি এই অঞ্চলে অভিবাসীদের নজরদারি ও উদ্ধারে কাজ করা জাহাজ ও বিমানের একটি নেটওয়ার্কের অংশ।
সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে অন্তত সাতটি ঘটনায় লিবিয়ার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যুক্ত নৌযান দ্রুতগতিতে উদ্ধারকারী জাহাজের কাছে চলে আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব নৌযান ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্ধারকারী জাহাজকে অনুসরণ করে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা পর্যন্ত ধাওয়া করে।
এ সময় লিবিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা অনেক অজ্ঞাত দ্রুতগতির নৌযানের উপস্থিতিও বেড়েছে। এসওএস মেডিতেরানি বলছে, এসব নৌযান বিপদে থাকা অভিবাসীদের বহনকারী নৌকায় ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়াসহ বিপজ্জনকভাবে নৌযান চালিয়েছে। এতে মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
গত বছর সংস্থাটি লিবিয়ার কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ওশান ভাইকিং’-এ হামলার অভিযোগ করেছিল। তাদের দাবি, ওই ঘটনায় ১০০টির বেশি গুলি ছোড়া হয়। এতে জাহাজটির ৮৭ জন উদ্ধার করা অভিবাসী ও ক্রুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
ঘটনাটি নিয়ে ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে তাদের অভিযোগ, ইউরোপীয় ও জাতীয় কর্তৃপক্ষগুলো এ বিষয়ে নীরব রয়েছে এবং হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
এসওএস মেডিতেরানি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মধ্য ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে একই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই পথে অভিবাসীদের যাত্রা কমেছে।
আইওএমের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগরে ৮২১ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১১১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, একই সময়ে এই পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা ৪৬ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৫৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা সামরিক যুদ্ধে পরাজয়ের শামিল
ডুবে যাওয়ার ৭৮ বছর পর মিললো ‘জাহাজ আলতালেনা’
আগ্রাসীদের শর্তে যুদ্ধ শেষ করবে না ইরান: বাঘাই
'হরমুজে ইরানের নজরদারি যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়েও কঠোর'