আফ্রিকার ভারত মহাসাগর উপকূলবর্তী দেশ কেনিয়ায় সরকার বিরোধী চলমান বিক্ষোভের এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। সম্প্রতি নতুন একটি আর্থিক বিল পাসের প্রতিবাদে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সারা দেশে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ। আর সে সময়ই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৯ জুন) মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত ওই বিলটি পাসের পরই সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। সে সময় সংসদ সদস্যরা বেসমেন্টে আশ্রয় নেন। শুধু রাজধানী নাইরোবি নয়, নতুন বিলের বিরুদ্ধে দেশজুড়েই বিক্ষোভ হচ্ছে। কারণ এই বিলের মাধ্যমে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেনিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ২৫ জুন (মঙ্গলবার) বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর আফ্রিকা অঞ্চলের সহযোগী পরিচালক ওটসিয়েনো নামওয়ায়া বলেছেন, কোনো ধরনের যৌক্তিকতা ছাড়াই ভিড়ের মধ্যে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। এমনকি অনেক বিক্ষোভকারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও গুলি করা হয়। কেনিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
কি ছিল সেই বিলে?
কেনিয়ার ঋণের বোঝা হালকা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২৭০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যে নতুন আর্থিক বিল করতে চায় সরকার। দেশটির বার্ষিক রাজস্বের ৩৭ শতাংশই চলে যায় ঋণ শোধ করতে। রুটি, রান্নার তেল, গাড়ির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর প্রস্তাবিত নতুন কর বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার ইতিমধ্যে কিছু ছাড় দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদকারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। তারা চায়, পুরো বিলটিই বাতিল করা হোক।
গত সপ্তাহে বিলের কিছু বিষয় সংশোধন করা হয়েছে। তবে পুরো বিলই বাতিলের দাবি জানিয়েছেন কেনিয়ার নাগরিকরা।
