বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্টের আগের অবস্থায় আমরা ফিরে যেতে চাই না। আগস্টের পূর্বে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।’ তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ ও বিভেদের রাজনীতির পরিণতি জাতি ইতোমধ্যে দেখেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বেলা সোয়া ১১টায় বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তারেক রহমান নিজেই বিভিন্ন সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি যেন মতবিভেদে রূপ না নেয়। মতবিভেদ হলে জাতি বিভক্ত হয়, আর জাতি বিভক্ত হলে কী পরিণতি হয়, তা আমরা ৫ আগস্ট দেখেছি।’
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে হতাশা থাকলেও তাদের কাছে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা ও পরিকল্পনা রয়েছে। ‘নতুন প্রজন্ম আশা দেখতে চাচ্ছে, তারা একটি গাইডেন্স চাচ্ছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, প্রতিটি প্রজন্মই আজ একটি দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছে,’ বলেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশে না থাকলেও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমরা জানি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’ তিনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এর পাঁচ দিন পর, ৩০ ডিসেম্বর, তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। এর ১০ দিনের মাথায় শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।
নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে ফিরে কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সেখানে গিয়ে বুঝেছি মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, একটি আশার কথা শুনতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই তিনটি সময় আমাদের সামনে রেখে যদি আমরা রাজনীতি করি, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে জাতিকে সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।”
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় গেলে শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এছাড়া, অতীতের মতো আবারও চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

