উত্তেজনা চরমে, এবার আকাশসীমা বন্ধ করলো ইরান

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫ এএম

গত দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এক উত্তেজনার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সিভিল ফ্লাইটের উঠা-নামা ব্যতীত সব ধরনের উড্ডয়নের জন্য নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে প্রকাশিত এক সরকারি এভিয়েশন নোটিশে এ তথ্য জানা যায়। তবে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। খবর আনাদোলুর। 

'নোটিশ টু এয়ার মিশনস' (এনওটিএএম)-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরানের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে শুধুমাত্র সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পূর্বানুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানে প্রবেশকারী বা ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং অন্যান্য সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বর্তমানে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। 

বিক্ষোভকারীদের প্রতি বারবার সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র 'খুব কঠোর ব্যবস্থা' নিতে পারে।

এছাড়া, জি-৭ এর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বিক্ষোভকারীদের ওপর 'ইচ্ছাকৃত সহিংসতার' নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইরান সরকারকে সংযম প্রদর্শন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা এই বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিক্ষোভ নিয়ে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

AHA
আরও পড়ুন