মানবতাবিরোধী অপরাধ

জয় ও পলকের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই আদেশ প্রদান করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামির মধ্যে জুনায়েদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। আজ সকালে তাকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আদালতে পেশ করেন: ১. উসকানি ও হামলা: ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে জয়ের নির্দেশে পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর জের ধরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়। ২. ইন্টারনেট বন্ধ ও হত্যা: ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা দেওয়া। এর ফলে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন শহীদ হন। ৩. উত্তরা গণহত্যা: উত্তরায় ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় সরাসরি সহায়তা ও প্ররোচনা প্রদান।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ আমলে নিয়েছিলেন আদালত। ১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগের বিরোধিতা করে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করলেও আদালত পর্যাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লব চলাকালীন সারা দেশে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে আন্দোলন দমনের চেষ্টার পেছনে এই দুই ব্যক্তির মূল ভূমিকা ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের ডিজিটাল অপরাধের অংশের বিচারিক প্রক্রিয়া গতি পেল।

NB/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত