ফিলিস্তিনের গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং ‘সীমিতভাবে’ পুনরায় খুলে দেয়ার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। তবে শর্ত হিসেবে অবরুদ্ধ গাজায় আটক থাকা শেষ বন্দির মরদেহ উদ্ধার করতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে এবং এতে করে মানবিক সহায়তা প্রবেশ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং ‘সীমিতভাবে’ পুনরায় খুলে দেয়ার এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে রোববার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতরা ইসরায়েল সফরে গিয়ে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের প্রধান এই পথ খুলে দেয়ার জন্য তেল আবিবের ওপর চাপ দেন বলে জানা গেছে।
মূলত রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করা ছিল গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গাজা যুদ্ধবিরতির কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু গণহত্যার সময় ইসরায়েলি বাহিনী ক্রসিংটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে এটি বন্ধই ছিল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক্সে জানায়, জীবিত সব জিম্মিকে ফিরিয়ে দেয়া এবং নিহত সব বন্দির মরদেহ উদ্ধারে হামাসের শতভাগ সহযোগিতা নিশ্চিত হলেই কেবল সীমান্ত খোলা হবে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, শেষ বন্দি রন গভিলির মরদেহ উদ্ধারে সংগৃহীত সব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন একটি বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই অভিযান শেষ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে তার ভিত্তিতে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেয়া হবে।’
টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, গাজা ও মিসরের মধ্যে সংযোগকারী রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংটি যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের আওতায় গত অক্টোবরেই খোলার কথা ছিল। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল সেই শর্ত মানেনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও ইসরায়েলি বাহিনী শত শতবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এ সময়ে অন্তত ৪৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১ হাজার ৩২১ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চালানো নির্বাচন হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ইতোমধ্যে গাজায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। টানা হামলায় অবরুদ্ধ এই উপত্যকা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং পুরো জনগোষ্ঠী তাদের ঘর-বাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

