গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রচারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ এএম

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গণভোটে হ্যাঁ-এর প্রচারে নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এরআগে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশনা থাকায় তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল ব্যাংকাররা। তারা কেন্দ্রীয় লিখিত নির্দেশনার দাবি জানিয়েছিলেন।

প্রজ্ঞপনে বলা হয়, ব্যাংকের সব শাখার সামনে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবসমূহের উপর গণভোট বিষয়ক জনসচেতনামূলক ব্যানার টানাতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আসা ৫ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে আসা নির্দেশনা মোতবেক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবসমূহের উপর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২টি খাড়া ব্যানার প্রিন্ট করে আপনাদের ব্যাংকের সকল শাখা/উপশাখার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ প্রদান করা হলো।

এরআগে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে এক বৈঠকে গণভোটে হ্যাঁ-এর প্রচারণার আহ্বান জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। কিছু কিছু ব্যাংক সেটা বাস্তবায়নও করেছে। তবে কোন কোনে ব্যাংক দাবি করে লিখিত নির্দেশনা ছাড়া প্রচারণা করবে না। ওই দাবির প্রেক্ষিতে নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক। 

গত সপ্তাহে রাজধানীর সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের একাধিক শাখায় দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার টানিয়েছে। ব্যানারে লেখা ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন। দেশের চাবি আপনার হাতে। আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে মোট ১২টি বিষয়ে সচেতনাতামূলক প্রচারণার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।

পরামর্শগুলো হলো- সরকারি দল ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি নির্বাচিত হবেন। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।

ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা বাড়বে (ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ করা যাবে না)। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।’

AHA
আরও পড়ুন