ঢাকা-৮ আসনে বাতিল ভোট গণনা করা হয়েছে, অভিযোগ এনসিপির

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৭ এএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ঢাকা-৮ আসনে বাতিল ভোট গণানা করা হয়েছে। যে ভোটগুলো বোর্ড মার্কার বক্সে পড়েনি। আপনারা জানেন, নির্দিষ্টভাবে আরপিওতে উল্লেখ আছে, মার্কার বক্সে ভোটটা দিতে হবে। বোর্ড মার্কার নামের ওপরে পড়লেও হবে না কিংবা এর বাইরে পড়লেও হবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত আড়াইটায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি এর বাইরে খালি যে জায়গা আছে সেখানে সিল দেওয়া হয়েছে। সেই সিলকে ধানের শীষের পক্ষে কাউন্ট করা হয়েছে। কাউন্ট করে সেটাকে বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-৮ আসনের ফল ঘোষণা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আসিফ বলেন, প্রথমে আমরা যখন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে চাইলাম তিনি বললেন যে তাকে ইসি থেকে ইসির সেক্রেটারি মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন যে বক্সের বাইরের ভোটটা কাউন্ট করা যাবে। পরে আমরা ইসি সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বললাম। ইসিতে কথা বললাম। ইসি থেকে আমাদের জানানো হলো যে তারা কোনো এ ধরনের নির্দেশনা দেননি। এটা প্রিসাইটিং কর্মকর্তা ও  রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত।

একজন থেকে আরেকজন বল পাস করার মতো চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা স্পষ্টভাবে বোঝায় যে এখানে একটা ফল টেম্পারিং হচ্ছে। আমরা এটার প্রমাণও পেয়েছি। যিনি ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী তার ভাগ্নের একটা কল রেকর্ড আমরা পেয়েছি। সেখানে তিনি ঠিক একই একই কথাগুলো বলছেন।

তিনি বলেন, এই বাতিল ভোটের সংখ্যা কত? এই বাতিল ভোটগুলোকে কাউন্ট করে যখন তারা হেরে যাচ্ছিল তখন দেরি করে বাতিল ভোটগুলোকে কাউন্ট করা হয়েছে। কিছু আসনে ফলাফল টেম্পারিং করার এক ধরনের চেষ্টা হচ্ছে। যখন তারা দেখলো যে কিছু কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছে এবং কিছু আসনে যেখানে আমাদের ১১ দলীয় জোটের নেতৃস্থানীয় যারা প্রার্থী আছেন তাদের হারানোর উদ্দেশ্যে ফল টেম্পারিং করার স্পষ্ট প্রমাণ আমরা পাচ্ছি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা ঢাকা-১৩ আসনে দেখলাম এক ধরনের অসংলগ্ন ফল। মিডিয়ায় একরকম আসছিল, কেন্দ্র থেকে আরেকরকম আসছে। কেন্দ্রগুলোর ফল যোগ করলে একরকম আসে, রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্যরকম ঘোষণা দিলেন।

ভোট গণনা শেষ না হতেই বিজয় ঘোষণা করে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ জানিয়ে আসিফ বলেন, এই মিডিয়ার মাধ্যমে এক ধরনের ম্যানিপুলেশন এবং ফল টেম্পারিং করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি যে ঢাকা-১৯ আসনে আমাদের প্রার্থী সেখানে একটি কেন্দ্রের ভোট ৪৬০ ছিল বিএনপি প্রার্থীর, ৬০০ সামথিং ছিল আমাদের শাপলা কলিতে। সেটা যখন রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষণা দিলেন তিনি উল্টোটা ঘোষণা করলেন। তিনি ৪৬০টি ঘোষণা করলেন শাপলা কলির আর ৬০০ সামথিং ঘোষণা করলেন থানের শীষে। মানে এটা খুবই হাস্যকরভাবে ফল টেম্পারিং করা হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি।

‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলবো অবশ্যই এ অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে আমলে নিয়ে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত আসনগুলোর যেন কোনো ফল ঘোষণা করা না হয়। কুড়িগ্রাম-২ আসনে আমাদের প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে দিয়েছেন এবং সেখানে প্রত্যেকটি কেন্দ্রের ফল যোগ করলে তিনি বিজয়ী হন। কিন্তু তারপরে আমরা দেখলাম বিএনপির নেতাকর্মীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করলেন এক ধরনের মব সৃষ্টি করে ফল পরিবর্তন করার দাবি করতে থাকলেন।'

তিনি আরও বলেন, এটা আমরা ঢাকা-৮ আসনেও দেখেছি, সেখানে একটি কেন্দ্রের ফল ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা মানেন না বলে সেখানে সাতবার কাউন্টিং করানো হলো। সেখানে প্রতিটি কেন্দ্রে ফল কাউন্ট করে যা আসছে সেটার সঙ্গে আবার সেন্ট্রালি রিটার্নিং কর্মকর্তা যা ঘোষণা করছেন তার মিল থাকছে না।

আরও পড়ুন