ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। তারা সবাই কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
পেন্টাগন জানায়, গত রোববার কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা (Port Shuaiba) এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন লজিস্টিক স্থাপনায় ইরানের একটি আত্মঘাতী ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই চার মার্কিন সেনা নিহত হন। তারা সবাই আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেস মইনস ভিত্তিক ‘১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ড’-এর সদস্য ছিলেন।
নিহত চার মার্কিন আর্মি রিজার্ভ সেনা হলেন- ক্যাপ্টেন কোডি এ. খর্ক (৩৫), তিনি ফ্লোরিডার উইন্টার হ্যাভেনের বাসিন্দা। সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নোয়া এল. টিটজেন্স (৪২), তিনি নেব্রাস্কার বেলভিউয়ের বাসিন্দা। সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নিকোল এম. আমোর (৩৯), তিনি মিনেসোটার হোয়াইট বেয়ার লেকের বাসিন্দা। এছাড়া কোডি নামে আরেকজন সেনা এই হামলায় নিহত হয়েছেন, তাকে মৃত্যুর পর স্পেশালিস্ট পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ২০২৩ সালে আর্মি রিজার্ভে যোগ দিয়েছিলেন।
পেন্টাগন জানিয়েছে, নিহত এই সেনাদের অধিকাংশেরই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলার প্রতিবাদে ইরান এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০০টির বেশি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজারেরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। সূত্র: রয়টার্স।
কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
এই সময়ে কেন ইরানে হামলা, কী চায় ইসরাইল
আজীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাবার মতো অস্ত্রের মজুদ আছে: ট্রাম্প
যুদ্ধে না জড়ানোয় স্পেনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প
