মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা, ইরানি গোলার আঘাতে মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমানের জরুরি অবতরণ এবং কাতারের এলএনজি কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতির খবর বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের শক্তি বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৪,০০০ মেরিন সেনা ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (KPC) মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে শুক্রবার ভোরে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার পর শোধনাগারের বেশ কিছু ইউনিটে আগুন ধরে যায় এবং উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এই হামলাটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
নিউজমেক্স জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিধি বাড়াতে পেন্টাগন 'বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ' (Boxer Amphibious Ready Group) মোতায়েন করছে। ৪,০০০ মেরিন সেনা ও নৌ-সদস্যের এই বহরে রয়েছে অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমান এবং বিশেষ উভচর যান। এই যানগুলো সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলভাগে বড় ধরনের আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আগে 'ইউএসএস ত্রিপোলি' পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান শক্ত করেছিল, এখন নতুন এই মোতায়েন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি কর্বো সতর্ক করেছেন যে, কাতারের রাস লাফান এলএনজি কেন্দ্রে হামলার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লাগলে ২০২৬ সালের এলএনজি সরবরাহ ২০২১ সালের পর্যায়ে নেমে যাবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ৫ বছরের একটি বড় ধাক্কা।
একদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের নৌ-বহর ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের অঙ্গীকার করছেন, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি 'এক্সিট স্ট্র্যাটেজি' বা সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছেন। একদিকে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চাপ (এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত ও ১২টি ড্রোন ধ্বংস), অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির ধস- এ সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউস এখন উভয়সংকটে।
ইরান যুদ্ধে আরও যুদ্ধজাহাজ ও সৈন্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
